Thursday, February 18, 2016

একুরিয়ামে মাছ পালনের পদ্ধতি

সূচনা কথা
 মানুষ মূলতঃ খুবই সৌখিন। তার বেসিক চাহিদা গুলো পূরণ হওয়ার পর সে তার জীবন আর তার পরিবেশ সাজাতে চায় সুন্দর কিছু দিয়ে। যেটা তার ও তার আশেপাশের মানুষের নজর কাড়ে। আর এক্ষেত্রে দেখা যায় একেক মানুষের একেক রকম শখের। কিন্তু এই সৌখিনতার পাশাপাশি চলে আসে সেই জিনিসটার প্রতি যত্ন এবং রক্ষনাবেক্ষন। যার জন্য মানুষকে অনেক সময় দিতে হয় সেটার পিছনে। যেমন, বাগান, শো-পিস, কলম, বই, ডায়েরী, দেয়াল ছবি, গাড়ী বা অনেক কিছুই হতে পারে।
ঠিক তেমনি একটি সখের জিনিস হলো, একুরিয়াম। অনেকে বাসায় মুরগী, কুকুর, বিড়াল বা মাছ পালতে ভালোবাসেন। যাই হোক, আমি একুরিয়াম নিয়ে আলোচনা করতে চাই। আমাদের শহর কেন্দ্রিক জীবনধারায় ড্রইং রুমে একটি একুরিয়াম সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে তোলে নিঃসন্দেহে। ঘরের কোণের একুরিয়ামে জীবন্ত বাহারী রং এর মাছ গুলো যখন সাঁতার কাটে তখন দেখতে ভালই লাগে। কিন্তু একটা সুন্দর, চকচকে, মাছের জন্য সু-স্বাস্থ্যকর একুরিয়াম মেইন্টেন করতে হলে সেটার পিছনে অনেক শ্রম দিতে হবে। এটা ছাড়াও আপনাকে হতে হবে ধৈর্য্যশীল।
যারা বাড়ীতে একুরিয়ামে মাছ পালেন তাদের মধ্যে বড় একটা অংশ একসময় হোপলেস হয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তখন সেই ভাঙ্গা একুরিয়ামের জায়গা হয়ে বাড়ীর স্টোররুমে বা গ্যারেজের কোণায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহ ও ধৈর্য্য বজায় রাখাটাও অনেক সময় টাফ হয়ে যায়।

কারণ আমি দেখেছি, বেশীরভাগই মানুষ একুরিয়ামের ব্যাপারে সঠিক তথ্য পায়না। অনেকটা বেসিক সেন্সের উপর ভিত্তি করে মাছ পালেন একুরিয়ামে। শেষে মাছ অসুখ হয়ে মারা যায়। আর কোন একুরিয়ামের দোকান থেকে আপনি এই মাছগুলোকে স্বাস্থ্যবান রাখার জন্য কোন হেল্পই পাবেন না। কারণ এখানে একটা ব্যাবসায়িক ব্যাপার থাকে বোধ হয়।
 ঠিক তেমনি একটি সখের জিনিস হলো, একুরিয়াম। অনেকে বাসায় মুরগী, কুকুর, বিড়াল বা মাছ পালতে ভালোবাসেন। যাই হোক, আমি একুরিয়াম নিয়ে আলোচনা করতে চাই। আমাদের শহর কেন্দ্রিক জীবনধারায় ড্রইং রুমে একটি একুরিয়াম সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে তোলে নিঃসন্দেহে। ঘরের কোণের একুরিয়ামে জীবন্ত বাহারী রং এর মাছ গুলো যখন সাঁতার কাটে তখন দেখতে ভালই লাগে। কিন্তু একটা সুন্দর, চকচকে, মাছের জন্য সু-স্বাস্থ্যকর একুরিয়াম মেইন্টেন করতে হলে সেটার পিছনে অনেক শ্রম দিতে হবে। এটা ছাড়াও আপনাকে হতে হবে ধৈর্য্যশীল।
যারা বাড়ীতে একুরিয়ামে মাছ পালেন তাদের মধ্যে বড় একটা অংশ একসময় হোপলেস হয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তখন সেই ভাঙ্গা একুরিয়ামের জায়গা হয়ে বাড়ীর স্টোররুমে বা গ্যারেজের কোণায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহ ও ধৈর্য্য বজায় রাখাটাও অনেক সময় টাফ হয়ে যায়।

কারণ আমি দেখেছি, বেশীরভাগই মানুষ একুরিয়ামের ব্যাপারে সঠিক তথ্য পায়না। অনেকটা বেসিক সেন্সের উপর ভিত্তি করে মাছ পালেন একুরিয়ামে। শেষে মাছ অসুখ হয়ে মারা যায়। আর কোন একুরিয়ামের দোকান থেকে আপনি এই মাছগুলোকে স্বাস্থ্যবান রাখার জন্য কোন হেল্পই পাবেন না। কারণ এখানে একটা ব্যাবসায়িক ব্যাপার থাকে বোধ হয়।

Friday, February 12, 2016

মাছের খাদ্য প্রয়োগে সাশ্রয়ী পদ্ধতি



Md. Firoj Mahmud 
দেশের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠির খাদ্য চাহিদা পূরণে শুধু প্রাকৃতিক উৎসের উপর নির্ভরশীল থাকা যুক্তিযুক্ত নয়। বিষয়টি উপলব্ধি করে বিগত কয়েক বছর যাবৎ বহুসংখ্যক মৎস্য চাষি মৎস্য চাষে মনোনিবেশ করেছেন। একটা সময় ছিল যখন মাছ চাষ করলে বিনিয়োগের প্রায় সমপরিমাণ টাকা লভ্যাংশ পাওয়া যেতো। কিন্তু পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কারণে মাছ চাষে লাভের পরিমাণ কমতে থাকে। এমনকি কখানো কখনো লোকসান গুণতে হয় অথবা লভ্যাংশ বিনিয়োগের তুলনায় অত্যন্ত সীমিত হয়। মাছ চাষের ক্ষেত্রে এমনি সময় কিভাবে উৎপাদন খরচ আরও কমানো যায়, অপচয় রোধ করা যায় এবং লাভ নিশ্চিত হয় তা ভাবার একটা সময় এসে গেছে। যেহেতু মাছ উৎপাদনে প্রায় ৭০ ভাগ এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে তারও অধিক খরচ হয় কেবলমাত্র খাদ্য বাবদ সেহেতু এ পর্যায়ে আমি আমার অভিজ্ঞতার আলোকে প্রচলিত পদ্ধতির সাথে পুকুরে মাছের খাদ্য প্রয়োগের অপচয় রোধ, সাশ্রয়ী ও বিজ্ঞানভিত্তিক একটি পদ্ধতির তুলনামূলক তথ্যাদি উপস্থাপনের চেষ্টা করছি।
দৈহিক ওজনের শতকরা হার পদ্ধতি (প্রচলিত)



চাহিদানুযায়ী মাছের খাদ্য তালিকা



মোঃ ফিরোজ মাহমুদ
 
বর্তমানে নানা কারণে মাছচাষিদের দুঃসময় চলছে। গত ২ থেকে ৩ বছর সফল ও লাভজনকভাবে খামার পরিচালনা করছেন এমন চাষির সংখ্যা খুব কম। মাছ চাষে গড়ে ৭৫ ভাগ খরচ হয় খাদ্য বাবদ। আর সেজন্য খামার লাভজনকভাবে পরিচালনা করতে খাদ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সাধারণত মাছ চাষিরা মাছের খাদ্য প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুকুরের মাছের মোট দৈহিক ওজনের শতকরা হারে খাদ্য প্রয়োগ করে থাকেন। এক্ষেত্রে তারা যে পদ্ধতি অবলম্বন করেন তা হচ্ছে- ৪০ শতাংশের একটি পুকুরে প্রতি শতাংশে ১৫০টি ঘনত্বে যদি প্রতিটি ১০০ গ্রাম ওজনের ৬০০০টি পাঙ্গাস মাছ থাকে তাহলে মাছের মোট দৈহিক ওজন হবে ১০০ গ্রাম দ্ধ ৬০০০ = ৬০০ কেজি। ৫% হারে খাদ্য প্রয়োগ করলে দৈনিক ৩০ কেজি খাদ্য উক্ত পুকুরে প্রয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে ১০০ গ্রাম ওজনের মাছটির দৈনিক খাদ্য চাহিদা কত গ্রাম বা দৈনিক বৃদ্ধি কত গ্রাম তা না জেনেই খাদ্য প্রয়োগ করছেন।
মাছ চাষিরা এ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রয়োগ করে ১০ থেকে ১৫% অপচয় হলেও এক সময় লাভের পরিমাণ বেশি হওয়াতে তা চোখে পড়েনি। বর্তমানে লাভ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় অপচয় রোধের ব্যাপারে মাছ চাষিদের সচেতন হতে হবে। এ ক্ষেত্রে আরো বিজ্ঞানসম্মতভাবে মাছের খাদ্য প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে, যে পদ্ধতি ব্যবহার করে মাছ চাষিরা উপকার পেতে পারেন-

শীতকালীন মাছের ক্ষতরোগ


শীতকালীন মাছের ক্ষতরোগ
 Md. Firoj Mahmud

শীতকালে মাছের রোগ-বালাই বেশি হয়ে থাকে। যার কারণে খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির শিকার হয়। দূষিত পানি বা পানির চেয়ে মাছ বেশি হলে উপযুক্ত খাবারের অভাব, পানির তাপমাত্রা, ক্ষারকতা বা অমস্নত্বের অত্যধিক হ্রাস বৃদ্ধি হয়, এছাড়া পরজীবী ও জীবাণুর আক্রমণে শীতকালে মাছের শরীরে রোগ দেখা দেয়।

রোগাক্রান্ত মাছের কিছু অস্বাভাবিক আচরণ ও শারীরিক অসঙ্গতি দেখা যায় যেমন- খাবারের প্রতি অনিহা, কঠিন বস্তুতে গা ঘর্ষণ, চলার গতি ধীর হওয়া; পানির উপর ভেসে থাকা; লাফালাফি করা; এছাড়াও দেহের যেকোনা অংশে ঘা হতে পারে। রূপালি রঙের সাদা ফোঁসকা উঠে পেট ফুলে যাওয়া, ফুলকা ফুলে উঠে এবং গায়ে আঠাঁলো বিজলা বের হওয়া।

আমাদের দেশে শীতকালে সাধারণত ক্ষত নামক রোগ মহামারী আকারে দেখা দেয়। উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে এসময় খমারিরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা: একানোমাইসিস নামের একপ্রকার ব্যকটেরিয়ার কারণে মাছের ক্ষত রোগ হয়। এ রোগের জীবাণু সম্পর্কে দ্বিমত থাকলেও প্রতিকূল পারিপার্শ্বিতা এ রোগের মূল কারণ বলে মৎস্য বিজ্ঞানীরা মনে করেন।

মৎস্য পোনা, খাদ্য ও পুকুর ব্যবস্থাপনা



মৎস্য পোনা, খাদ্য ও পুকুর ব্যবস্থাপনা

নদী মাতৃক এ দেশ আমাদের বাংলাদেশ। ধান ও মাছের প্রাচুর্যতা ছিল বলেই এক সময় আমাদের মাছে ভাতে বাঙালি বল হত। বিভিন্ন সময়ে ধানের উচ্চফলনশীল জাতের অবিষ্কার হলেও মাছের ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। বিগত আশির দশকে প্রাকৃতিক অভয়াশ্রমগুলো বিভিন্ন কারণে সংকুচিত হয়ে আসে। পাশাপাশি কারেন্টজালের ব্যবহার এক ভয়বহ চিত্র তুলে ধরে আমাদের সামনে। এই জাল ব্যবহারের ফলে পানি থাকবে, মাছের অভয়াশ্রম থাকবে, পানির স্রোত থাকবে, খাল, বিল, নদীনালা, হাওড় বাওড় সবই থাকবে, থাকবে না শুধু মাছ। কারণ একটাই, কারেন্ট জাল। তাই আশির দশকে নানাবিধ কারণে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে মৎস্যসম্পদ বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রায় ৮০০-এর মত মৎস্য হ্যাচারি গড়ে ওঠে।